পানি চর্বি বা শরীরে পানি জনিত ওজন

water weight pic
ওজন কমানোর সময় একটা টার্ম যে শুরুর দিকে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমে, ৭ দিনে ৫ কেজি কমে যায়, পরে ধীরেধীরে কমে কারণ কি?  কিটোজেনিক ডায়েট শুরুর ১০ দিনে ১০ কেজি কমে গেল, কিন্তু পরের ২০ দিনে ৩ কেজি রিডাকশন কারণ টা কি? সরদি কাশির জন্য এন্টিহিস্টামিন খাই ১ মাস হল, মুখ ফোলা কেন লাগে? বাতাস খেলেও ফুলে যাই, হ্যা লবণ টা মেপে খাই না, ওজন কেন কমছে না?  চিনি পছন্দ, প্রোটিন আর কার্ব তো সিমিলার ক্যালরি, ক্যালরি ব্যালেন্স করেই খাচ্ছি ওয়েট কেন কমছে না?  ঘুম ৬ ঘন্টার কম হলে মুখ ফোলা কেন ?  ৮ ঘন্টার বেশি ঘুমাই, দূর্বল লাগে মেপে খাই তাও ফোলাভাব কেন যাচ্ছে না।  সবগুলো প্রশ্নের একটা উত্তর হলো Water Weight বা পানিজনিত ওজন। সুস্থ স্বাভাবিক একটা মানবদেহ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন, তবে ওয়াটার ওয়েট কি আমাদের জন্য ভালো? শরীরের ৭০% ই ত পানি, তবে ওয়াটার ওয়েট কি আর কেন ভেবেছেন? বর্ষাকালে লবণ টেবিলে কিছুদিন রেখে দিলে পানি টেনে নিতে দেখেছেন নিশ্চয়ই, কারণ লবণ হাইগ্রোস্কোপিক, অর্থাৎ পানি ধরে রাখে, এই কার্যকরী গুণ টি সে খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ খেলেও একই উপায়ে শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, তাই যারা অতিরিক্ত লবন খান তাদের শরীরের ওয়াটার ওয়েট বেশি। সুস্থ স্বাভাবিক শরীর এর পানি ধরে রাখার প্রবণতা কম, শরীর কখনওই Fat বা Muscle এত সহজে লস করে না, ৭৭০০ calorie ডেফিসিট না হলে হিসেবে ওজন কমার কথাও না, তাহলে শুরুর দিকে খুব দ্রুত যেটা কমে সেটা কি? প্রশ্ন আসার কথা মাথায়, হ্যা এটাই ওয়াটার ওয়েট বা অতিরিক্ত পানি যা কিনা Flash Out করে দিচ্ছেন frequent urination আর ঘামের মাধ্যমে। 

 শরীরে Water Weight বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ: 
১. হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়া।   
২. মুখের ফোলাভাব।  
৩. Food Allergy  
৪.  দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ

 চলুন জানা যাক কি কি কারণে ওয়াটার ওয়েট বাড়তে পারেঃ  
১. অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট Intake: যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কার্ব নেন অথচ এক্সারসাইজ করেন ই না তেমন তাদের ক্ষেত্রে ইন্সুলিন স্পাইক করে বেশি, যা কিনা অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে ধরে রাখতে সাহায্য করে ফলাফল ওয়াটার ওয়েট বৃদ্ধি। শুধু তাই না প্রতি ১ গ্রাম মাসল গ্লাইকোজেন ৩ গ্রাম পানি ধরে রাখে, তাই কিটোর মত অল্মোস্ট কার্ব ফ্রি যেসব ডায়েট প্ল্যান আছে সেগুলো তে শুরুর দিকে যেই ওজন কমে তার পুরোটাই water weight.  
২. Exercise এর সময় মাসল glycogen থেকে ক্যালরি burn হতে থাকে পাশাপাশি ওয়াটার ওয়েট ও ধীরেধীরে কমতে থাকে, যে কারণে exercise করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।  ৩. পানি কম খাওয়াঃ Fluid  Retention, oedema, imbalance macro এবং খুব সামান্য ক্যালরি intake basis ডায়েট, toxic substance শরীরে deposit হওয়া ইত্যাদি ওয়াটার ওয়েট বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রচুর পানি পান করলে যা হয় toxic substance গুলো ফ্রিকুয়েন্ট ইউরিনেশনে বেরিয়ে যায়, electrolyte balance এর পাশাপাশি কিডনির নেফ্রন গুলো সুরক্ষিত থাকে।  ৪. পিরিয়ড এর সাইকেলঃ মহিলাদের পিরিয়ডিক্যাল সাইকেল এর লুটেয়াল ফেজ এবং প্রেগন্যান্সি তে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরনের হরমোনাল পরিবর্তন ওয়াটার ওয়েট রিটেনশনের একটা কারণ। তাই পিরিয়ড শেষ হবার ৪-৫ দিন পর হরমোন দুটি স্বাভাবিক রেঞ্জ এ আসলে ওয়েট খালি পেটে মাপা করা উচিৎ।  ৫. ঘুম পর্যাপ্তঃ ঘুম সিম্প্যাথেটিক রেনাল নার্ভস এর সঠিক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে, যা কিনা সোডিয়াম এবং ওয়াটার ব্যালেন্স করে। শুধু তাই না, প্রোটিন proper metabolism এর জন্য ৭-৮ ঘন্টার sound sleep জরুরি।  ওজন সঠিক সীমাতে রাখার স্বাস্থ্য ভিত্তিক অ্যাপ টি প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন। ৬. কর্টিসল+ ADH রিলেশনঃ কর্টিসল হরমোন হ্রাস বা বৃদ্ধি Antipyretic Hormone (ADH) কে ব্যালেন্স করে, যা কিনা নির্ধারণ করে ঠিক কত টা পানি কিডনি তে পাম্প করে পাঠাবে।  ৭. ইলেক্ট্রোলাইটস হাইপারন্যাট্রেমিয়া আর হাইপোন্যাট্রেমিয়া দুইখানা টার্ম, মূল বিষয় হল এক্টাতে ইলেক্ট্রোলাইট বেশি আরেক্টাতে কম দুটাই কিনা আমাদের জন্য খারাপ। আমরা খাবার লবণ খাচ্ছি সেখান থেকে সোডিয়াম আর ক্লোরিন পাচ্ছি। কিন্তু পর্যাপ্ত পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। মাল্টিভিটামিন এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে এডেড থাকে, তাই মাল্টিভিটামিন খাওয়ার পাশাপাশি পানি প্রচুর খাওয়ার সাজেশন দেয়া হয় যাতে body তে ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স থাকে। এছাড়া দুধ, কলা, টমেটো শাক ইত্যাদি ম্যাগ্নেশিয়াম- পটাশিয়াম এর ভালো উতস, তাই ডায়েট এ খাওয়ার সাজেশন রাখা হয়।

বি.এম.আই (BMI) ও বি.এম.আর (BMR) কি?

বি.এম.আই কী?
শরীরের ওজন কে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করে বডি ম্যাস ইনডেক্স (বিএমআই) হিসাব করা হয়। এটা আমাদের শরীর ঠিক আছে নাকি বোঝার জন্য খুব ভালো প্রক্রিয়া। কারন এর দ্বারা বোঝা যায় যে আপনার উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন ঠিক আছে কি নাই এবং আপনার স্বাভাবিক ওজনের পাল্লা কত সেইটাও বিএমআই এর মাধ্যমে জানা যায়।


বি.এম.আর কি?
বেসাল মেটাবোলিক রেট বা বিএমআর দ্বারা আপনার শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রাম অবস্থায় দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির চাহিদা কত সেটি জানা যায়।

কিটো ডায়েট বার্গার রেসিপি



 কিটোজেনিক লাভা বার্গার

kito burger lava
ম্যাক্রোঃ
কার্বহাইড্রেটঃ- ৪ গ্রাম
ফ্যাটঃ- ৩৯ গ্রাম
প্রোটিনঃ- ২৩ গ্রাম

উপকরণঃ
১. ইসুপগুল- ৩ টেবিল চামচ
২. ডিম - ৩টি
৩. বাটার/তেল - ২ টেবিল চামচ
৪. পেয়াজ - ৩০ গ্রাম
৫. কাচা মরিচ - স্বাদ মত
৬. চিকেন - ৫০ গ্রাম
৭. চীজ / মায়ানেজ - ১ টেবিল চামচ
৮. লেটুস পাতা / ধনে পাতা পরিমাণ মত


প্রস্তুত প্রনালিঃ

১. ইসুপগুল ,১টি ডিম ,কাচা মরিচ ,লবন, মিক্সিং করে কিছু সময় রেখে দিন।


২. চিকেন কুচি কুচি করে ১ টেবিল স্পুন বাটার/তেল এ ভেজে নিন। 

৩. বাকি ২টি ডিম হাল্কা কাচা কাচা কুসুম রাখে পোচ করে নিন। চাইলে হাল্কা পেপার পাওডার ও লবন দিয়ে পানি পোচও করতে পারেন।

৪. মিক্সিং করা ইসুপগুল অর্ধেক অর্ধেক করে ১ টেবিল চামচ বাটারে ব্রেড আকারে ভেজে নিন।

৫. মায়ানাজ / চিজ ফ্রাই পেনে অল্প মেল্ট করে উপরে দিন এর পর ইচ্ছা সব দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

কিটো ভেজিটেবল ডিম রোল রেসিপি





উপকরণ -
১. বাটার / তেল - ৪ টেবিল চামচ
২. ডিম - ৪ টা
৩. ইসবগুল - ৮ টেবিল চামচ বা আপনার পরিমাণ অনুযায়ী
৪. লেবুর রস - ১ টেবিল চামচ
৫. টমেটো - ৫০ গ্রাম

৬. পেঁয়াজ - ৩০ গ্রাম
৭. ম্যাগি নুডুলস মশলা - ১টি (৫ টাকা দামের টা)
৮. কাচা মরিচ কুচি স্বাদ মতো
৯. লবন - স্বাদ মত

প্রস্তুত প্রণালিঃ
১. চপেট করা টমেটো, কাচা মরিচ, পেপার পাওডার, লবন, পেয়াজ, ম্যাগি মসলা ২ চিমতি, ১ টা ডিম ভাল করে মিক্স করে। ১ চা চামচ বাটার এ ভেজে ঝুরা করে প্লেটে নিন।
২. ১টি ডিম ফেটে বাটিতে নিন।
৩. ১ টেবিল চামচ বাটার, সামান্য পানি, লবন, ২ টা ডিম, ইসুপগুল,আর মেগি মসলা দিয়ে। হাল্কা নরম করে ডো বানিয়ে নিন। শক্ত হলে ভেংগে যাবে। হালুয়ার মত ইতটু ভারি ভারি হবে।
৫. বাকি বাটার ফ্রাইংপ্যান এ ভাজার ঢেলে দিন।
৬. হাতে অল্প অল্প করে ডো নিয়ে চেপে চেপে সেপ করে তাতে পুর দিয়ে চার পাশ মুরে দিন। এরপর ডিম এর পেস্ট এ ডুুবিয়ে ফ্রাইংপ্যান এ ভাজুন।


চাইলে ম্যাক্রো অনুজাই আরো সবজি দিতে পারেন।



যেভাবে বাসায় কোকোনাট অয়েল বানাবেন

এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল

উপকরণ :
৫ টা নারিকেল কুড়ানো (১১০০ গ্রাম)
পানি
ব্লেন্ডার

প্রস্তুতি :
নারিকেল গুলো কুড়ানোর পর পানি মিক্স করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিবেন, পরে তা চীজ ক্লথ/ কাপড় টাইপের মিহি শপিং ব্যাগ এ ছেকে নারকেল দুধ আলাদা করে মুখ ঢাকা পাত্রে ফ্রিজ / বাইরে সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ক্রিম টা আলাদা হয়ে উপরে উঠে আসবে আর এক্সট্রা পানি নিচে রয়ে যাবে। ক্রিম অংশ টুকু কড়াইয়ে অল্প আচে ৩০ মিনিট নাড়লেই কাংখিত তেল পেয়ে যাবেন। এভাবে আমি ৩২০ মিলি তেল পেয়েছি। পোস্টের পিকে সব ছবি স্টেপ বাই স্টেপ আছে।

ক্যালরিঃ প্রতি টেবিল স্পুন ১২০ ক্যালরি, ফ্যাট ১৪ গ্রাম।
বি দ্র: নারিকেল কুড়ানো পেট আর হাতের সুপার ইফেক্টিভ একটি ব্যায়াম।তাই নিজেই কুড়বেন।

কফি ফ্লেভারড কোকোনাট ব্রেড রেসিপি

কফি ফ্লেভারড কোকোনাট ব্রেড কেক
ক্যালরিঃ  
১ স্লাইস বা পিস = ৮০ ক্যালরি (প্রায়)
মোট ৬ স্লাইস = ৪৮০ ক্যালরি (প্রায়)

উপকরনঃ 
১. নারিকেল ঝুরো
২. ডিম - ২ টি
৩. কফি পাউডার - দেড় টেবিল চামচ
৪. লবণ, ভ্যানিলা এসেন্স পরিমাণ মত
প্রস্তুতিঃ
নারকেল ঝুরো, ডিম, কফি, নুন, ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নন্সটিকি প্যানে বেক করে নিন।

বি.দ্র : নারিকেল তেল বানানোর টিপস টা পড়ে আসুন। ওখান থেকে ঝুরোর পরিমাণ জানা যাবে।

উল্লেখ্য নারকেল তেল বানানোর সময় ক্রিমি পার্ট ভেসে থাকে যেটা তে ফ্যাট + প্রোটিন থাকে, আর নিচের পানিতে কার্ব/ সুগার পার্ট থাকে। যেহেতু তেল বানিয়ে ফ্যাট পার্ট টা সংরক্ষণ করে রাখা যায় তাই প্রোটিন টাও কাজে লাগানো যায়। এতে কার্বোহাইড্রেট মোটামুটি নেই বললেই চলে, কারণ কার্ব পার্ট নিচে পানির লেয়ারে থাকে যেটা ফেলে দিতে বলা হয়েছিল নারিকেল তেল বানানোর টিপস এ।

কিটো ডায়েট পিৎজা রেসিপি

 
কিটো পিৎজা
ম্যাক্রো রেশিওঃ
কার্বহাইড্রেট বা শর্করাঃ ৫ গ্রাম = ৫ গুন ৪ = ২০ ক্যালরি
প্রোটিন বা আমিষঃ ১৩ গ্রাম = ১৩ গুন ৪ = ৫২ ক্যালরি
চর্বি বা স্নেহঃ ৫০ গ্রাম = ৫০ গুন ৯ = ৪৫০ ক্যালরি
মোটঃ  ৫২২ ক্যালরি

উপকরণঃ
১. ইসুপগুল - ৪ টেবিল চামচ
২. লেবুর রস - ১ চা চামচ
৩. বাটার - ৩ টেবিল চামচ
৪. মায়নেজ / চিজ - ২ চা চামচ
৫. ডিম - ২ টা
৬. সেদ্ধ গাজর কুচি - ২০ গ্রাম
৭. পেয়াজ - ২০ গ্রাম
৮. মরিচ গুরা, মরিচ কুচি-সাধ মত
৯. লবন - সাধ মত

প্রস্তুতঃ
১. ইসুপগুল, সামান্য পানি, মরিচ গুরা, লবন ও ১ টা ডিম নিয়ে ব্লেন্ডার করে পিজা ডো রেডি করুন। ডো টা যেন বেশী নরম না হয় আবার শক্তও না হয় এমন ভাবে পানি নিবেন।

২. ফ্রাইংপ্যান এ সামান্য তেল ব্রাশ করে নিন। আর ডো টাকে পিজা সেপ এ হাত দিয়ে চেপে চেপে দিন। ঢাকনাটি এমন ভাবে রাখুন যাতে বাতাস ঢুক্তে ও বের হতে না পারে। চুলার আচ একদম কম করে রাখবেন।  

৩. ডিম সেদ্ধ কুচি, পিয়াজ, কাচা মরিচ, মায়নেজ / চীজ, লেবুর রস, সেদ্ধ গাজর কুচি সামান্য মিক্স করে সালাদ করে পিজার উপর দেওয়ার জন্য রেডি করুন।

৪. ১৫ মিনিট পর ঢাকনা উলটে। পিজার উপর সব দিয়ে আবার ঢেকে দিন। ৫ মিনিট আবার লো আচে রেখে নামিয়ে নিন।

চাইলে ম্যাক্রো হিসেব করে আরোও সেদ্ধ ভেজিটেবল দিতে পারেন।

চুল ঘন ও বড় করার ৫টি টিপস

চুল যখন বড় হয় না কি ভাবে চুল বড় করবেন.? একটু লম্বা সময় ধরে কাজ করতে হবে চুল এর জন্য।
এর জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন।

দোকান থেকে কিনে আনুন গ্রিন টি। জিঅ্যান্ডকাজির চা টা ব্যবহার করতে পারলে ভালো।

টিপস ১ঃ ৩/৪টা টি ব্যাগ দিয়ে এক কাপ চা বানাবেন।চুল কে আঁচড়ে নিন। এর পর তুলা দিয়ে চা টা দিয়ে কুসুম গরম থাকা অবস্থায় মাথার ত্বকে লাগান। এক ঘণ্টা পর গোসল এর সময় মাথাটা শুধু পানি দিয়ে ধুতে ফেলুন। পরের দিন শাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

টিপস ২ঃ শাম্পু করার পরে এক লিটার গরম পানিতে ৪টা টি ব্যাগ দিয়ে চা বানিয়ে নিন এরপর চা ঠাণ্ডা হলে এক লিটার পানির সাথে চা টা মিশিয়ে মাথায় ঢেলে ধুয়ে ফেলুন।এরপর আর চুল ধোয়ার দরকার নাই। 

টিপস ৩ঃ গরম পানিতে ভেজানো চা আর ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো রেখে চা দুই টার মধ্যে পার্থক্য অনেক। তাই গরম পানি তে ভিজিয়ে রেখে চা টা বানাতে হবে। পরে ঠান্ডা করে দিলে সমস্যা নাই।

টিপস ৪ঃ বাংলাদেশ এর সিলেট থেকে খোলা চা পাতা আছে এই টা দিয়ে কাজ টা করলে ভালো উপকার পাবেন।


টিপস ৫ঃ চা পাতা মাথায় ঘসে দেয়ার সময় মাথায় তেল থাকা যাবে না। পরের দিন তেল দিতে পারবেন।


চুল পেকে যাওয়া রোধ করবেন যেভাবে

মেহেদির ডাল ও এর একটি পাতা নিয়ে পাতাটি পানি দিয়ে ধুয়ে বাতাসে শুখিয়ে নিন। এর পর ১০০ মিলি সরিষার তেল নিয়ে চুলায় গরম করুন। ধোঁয়া বের হতে লাগলে এর মধ্যে শুকিয়ে রাখা মেহেদি পাতা টা দিয়ে দিন। চুলার তাপ অল্প রাখুন। পাতার রঙ বদলে কালো হয়ে আসবে ৩০ মিনিট পর। এখন তেলটি ঠাণ্ডা করতে দিন। এরপর পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে ছেঁকে কাঁচের একটা বোতলে রেখে দিন তেলটা। একটি ছোট পাতার কণাও যাতে ছাঁকার পরে তেলের মধ্যে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। 

এই তেল দিলে চুল এর গ্রোথ বেড়ে যাবে। চুলে যদি সাদা ভাব বা লালচে ভাব থাকে তাহলে ১৫/২০ দিন এর মধ্যে চুল কালো হয়ে যাবে। এটিকে সাধারণ সরিষার তেল হিসাবেও ব্যবহার করা যাবে। সারা রাত মাথায় তেল রাখার চেষ্টা করবেন।

সরিষার তেল মাথা থেকে এক দিনে যেতে চায় না। এক দিন দুই বার শাম্পু করার পর ও চুল এ তেলতেলে লাগে। তাই যদি তাই চুল পেকে যাওয়া রোধ করতে এবং সিল্কি আর সাইনি চুল পেতে একটু একটু তেলতেলে চুল কে মেনে নিতে হবে।

চুল খুশকি মুক্ত রাখার সহজ টিপস

কোনও ছেলে বা মেয়ে হয়তো পাওয়া যাবে না যে সারা জীবন এ মাথায় একবার খুশকি আক্রমণ করে নাই।
তেমন কিছুই করা লাগবে না। বাজার থেকে কিনে আনুন বেকিং পাউডার।
যেটা দিয়ে কেক বানানো হয় সেই বেকিং পাউডার কিনবেন। যেকনো ব্র্যান্ড হলেই হবে। 
মাথায় যখন শাম্পু করবেন সেই শাম্পুতে এটি এক চিমতি মিশিয়ে নিন। মাথার চুল যতই বড় হোক না কেন বা শাম্পু যতই লাগুক না কেন বেকিং পাউডার এর পরিমান কখনই বাড়ানো যাবেনা। বেকিং পাউডার সব সময় এক চিমতিই থাকবে। এই বার মাথার চুল আর তালু ঘসে ঘসে ফেনাটা রেখে দিন ১০ মিনিট। দশ মিনিট পর পানি ঢেলে মাথা ধুয়ে ফেলুন।
চুল শুখানর পর নিজের চুল পরীক্ষা করে দেখুন। 

বেশির ভাগ সময় দেখে গেছে এক ধোয়াতে চুল থেকে খুশকি চলে গেছে। যদি এক ধোয়াতে না যায় তাহলে একনাগারে দুই তিন দিন দিতে হবে।

শ্যাম্পুতে বেকিং পাউডার মিশিয়ে না রাখাই ভালো। শ্যাম্পু করার সময় হাতে শ্যাম্পু নিয়ে সেই সময় বেকিং পাউডার মিক্স করবেন।

কিটো/লো-কার্ব মিক্সড ফ্রাইড রাইস উইথ পিনাট বাটার ডায়েট রেসিপি

উপকরণ ও ম্যাক্রো রেশিওঃ
১. চিকেন ১০০ গ্রাম - ১২৫ ক্যালরি
২. ফুলকপি ১০০ গ্রাম - ২৪ ক্যালরি
৩. ১ টা ডিম - ৭০ ক্যালরি
৪. অলিভ অয়েল - ১টেবিল চামচ- ১১৯ক্যালরি
৫. পিনাট বাটার - ১ টেবিল চামচ - ৯৪ ক্যালরি।
৬. ব্রকলি - ৫/৬ পিস।

৭. আদা পেষ্ট, রসুন পেষ্ট ১/২ চা চামচ করে
৮. কাঁচা মরিচ - ২টা কুঁচি করা
৯. লবন - স্বাদ মতো
১০. গাজর আর ধনে পাতা - পরিবেশনের জন্য।

প্রণালী :-
১. প্রথমে চিকেন গুলো ছোট ছোট পিস করে কেটে ১/২ চা চামচ আদা ও রসুন পেষ্ট, ১চা চামচ সয়া সস দিয়ে মেরিনেট করে রাখুন ২০ মিনিট।
২. এবার ফুলকপি গুলোকে ছোট করে কেটে ব্লেন্ডারে ভাতের মতো সাইজ করে ঝুরি করুন । এরপর ৪ মিনিট সিদ্ধ করে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন।
৩. গাজর এবং ব্রকলি একটু ভাপ দিয়ে নিন।
৪. ফ্রাইংপ্যান এ ১/২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ফেটানো ডিম ভেজে নিন।
৫. এরপর বাকি ১/২ চামচ তেল ফ্রাইংপ্যান এ দিয়ে মেরিনেট করা চিকেনগুলো ভেজে নিন ৩/৪ মিনিট। 
৬. সিদ্ধ ফুলকপির কুঁচি আর পিনাট বাটার দিয়ে একটু ভেজে নিন।
৭. সবশেষে কাঁচামরিচ কুঁচি, ব্রকলি আর গাজর কুঁচি, ধনে পাতা কুঁচি দিয়ে ভালো করে মিক্স করে ২/৩ মিনিট ফ্রাই করে নিন।
ব্যস হয়ে গেলো কিটো ফ্রেন্ডলি ফ্রাইড রাইস।
মোট শক্তিঃ ৪৩৩ ক্যালরি।

যেভাবে ডায়েট চার্ট বানাবেন

প্রথমে অ্যাপ থেকে আপনার BMR বের করবেন।
যদি আপনার BMR হয় ১৮০০ তাহলে BMR থেকে ৫০০ ক্যালরি বাদ দিবেন। তাহলে হলো ১৩০০ । 

সুতরাং ১৩০০ ক্যালরির চার্ট বানাতে হবে এবং সেই অনুযায়ী খাবার নির্ধারন করে খেতে হবে।

দুই ধরনের চার্টঃ
১. লো-কার্ব
২. হাই কার্ব

ম্যাক্রোর রেশিও বা পুষ্টির অনুপাতঃ
*লো-কার্বের ম্যাক্রো রেশিওঃ (২৫% কার্ব (শর্করা), ২৫% প্রোটিন এবং ৫০% ফ্যাট)
**হাই-কার্বের ম্যাক্রো রেশিওঃ (৫০% কার্ব, ২৫% প্রোটিন এবং ২৫% ফ্যাট)

খাদ্য উপাদান থেকে প্রাপ্ত শক্তিঃ
১ গ্রাম কার্ব = ৪ ক্যালরি
১ গ্রাম প্রোটিন = ৪ ক্যালরি
১ গ্রাম ফ্যাট = ৯ ক্যালরি

ম্যাক্রো হিসাবঃ BMR থেকে চার্ট বানাতে হবে এই তিন ম্যাক্রো রেশিও দিয়ে।
যেমন ১৩০০ ক্যালরির লো-কার্ব চার্ট হবেঃ
১৩০০ ক্যালরির ২৫% কার্ব = ১৩০০ গুন ০.২৫ = ৩২৫ ক্যালরির কার্ব যাকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতে হবে।
৩২৫/৪ = ৮১.২৫ বা প্রায় ৮১ ।
তাহলে সারাদিনে ৮১ গ্রাম কার্ব(কার্বোহাইড্রেট) খেতে হবে।

১৩০০ ক্যালরির ২৫% প্রোটিন (আমিষ) = ১৩০০ গুন ০.২৫ = ৩২৫ ক্যালরির কার্ব যাকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতেহবে।
৩২৫/৪ = ৮১.২৫ বা প্রায় ৮১
তাহলে সারাদিনে ৮১ গ্রাম প্রোটিন খেতে হবে।

১৩০০ ক্যালরির ৫০% ফ্যাট = ১৩০০ গুন ০.৫০ =  ৬৫০ ক্যালরির ফ্যাট যাকে ৯ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতে হবে।
৬৫০/৯ = ৭২.২২ বা প্রায় ৭২
তাহলে সারাদিনে ৭২ গ্রাম ফ্যাট খেতে হবে।


আবার, ১৩০০ ক্যালরির হাই-কার্ব চার্ট হবেঃ

১৩০০ ক্যালরির ৫০% কার্ব  =  ১৩০০ গুন ০.৫০  =  ৬৫০ ক্যালরির কার্ব যাকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতে হবে।
৬৫০/৪ = ১৬২.৫ বা ১৬২ ।
তাহলে সারাদিনে ১৬২  গ্রাম কার্ব খেতে হবে।

১৩০০ ক্যালরির ২৫% প্রোটিন = ১৩০০ গুন ০.২৫ = ৩২৫ ক্যালরির কার্ব যাকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতে হবে।
৩২৫/৪ = ৮১.২৫ বা ৮১ ।
তাহলে সারাদিনে ৮১ গ্রাম প্রোটিন খেতে হবে।

১৩০০ ক্যালরির ২৫% ফ্যাট = ১৩০০ গুন ০.২৫ =  ৩২৫ ক্যালরির ফ্যাট যাকে ৯ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে কত গ্রাম খেতে হবে।
৩২৫/৯ = ৩৬.৯৯  বা ৩৭ ।
তাহলে সারাদিনে ৩৭ গ্রাম ফ্যাট খেতে হবে। 


*আপনার অ্যাপ টি আপডেটেড থাকলে এবং আপনার ওজন স্বাভাবিক না থাকলে অ্যাপ এর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষনে বিএমআর অনুযায়ী ম্যাক্রো হিসাবের চার্টটি পেয়ে যাবেন। অথবা এভাবে খাতা কলমে লিখে আপনার ম্যাক্রো খাবারের হিসাব করতে পারেন। উল্লেখ্য যে অ্যাপ এর হিসাবে ৫০০ ক্যালরি বাদ দেওয়া হয়নি। কারণ দেহের অবস্থ্যা ভালোভাবে না পর্যবেক্ষন করে এইভাবে খাবারের ক্যালরি কমানো উচিত না। ৫০০ ক্যালরিই যে বাদ দিয়ে ডায়েট করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ওজন কমাতে হলে দেহের অবস্থ্যা অনুযায়ী আপনার সুবিধা মত ক্যালরি কমিয়ে নিবেন। কিছু ক্যালরি কম না করে অ্যাপ এর বি এম আর অনুযায়ী খাবার খেলে ওজন অতটা কমবেনা।

প্রধান প্রধান খাবারে প্রোটিন ও ফ্যাটের উৎসঃ
*কার্বঃ - ভাত, চাল, রুটি, ওটস, মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, আলু, কলা, কমলা, মাল্টা, আপেল, মুড়ি, পপকর্ন, ডাবের পানি, চিনি,মধু, রাজমা।
**প্রোটিনঃ - মাছ, মুরগী, ডিম, দুধ, টক দই, পনির, সয়া নাগেট, মসূর ডাল, মূগ ডাল, ছোলা, বাদাম।
***ফ্যাটঃ - ঘি, বাটার, অলিভ তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল, চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম, পনির। 

বি.দ্রঃ ডায়েট অনেক ধর্যের একটা ব্যপার। আপনাকে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে অনেক ধর্য্য ধরে ডায়েট করতে হবে। আবার ডায়েটে আপনার শরীরের চাহিদার থেকে কম খাবার খেতে হয়। আর এইজন্য লো-কার্ব অথবা হাই-কার্ব এ যেভাবে বলা আছে ঠিক সেই অনুপাতে খাবারে সঠিক প্রোটিন (যেমন পর্যাপ্ত ডিম, মাছ) রাখতে হবে এবং প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে। দিনে (৩-৪) লিটার অথবা আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশী। অন্যথায় কম খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে দূর্বলতা আসতে পারে।

চুল পড়া কমাবেন যেভাবে

আপনি কি চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত? 
ডায়েট করার পর থেকে চুল উঠে যাচ্ছে?
আগে বের করতে হবে কেন চুল পড়ছে?
রাতে কি ঘুমাচ্ছি ঠিক মতো?
মন এ শান্তি আছে তো?
সামনে কি পরীক্ষা?
অথবা কয়েক দিন আগে কি আপনার বাবু হয়েছে?
এই প্রব্লেম গুলার কোনও একটাও থাকলে যতই চুল এর যত্ন করেন কোনও কাজ হবে না।
যখন খুব খারাপ সময় পার করা হয় তখন চুল পড়ে না। যখন খারাপ সময়টা পার হয়ে যায় ঠিক সেই সময় সব চুল পড়ে যায়।
খাবার দাবার খুব বাছা বাছি করলে এর ঠিক ১৫ দিন পর চুল পড়ে।
 এরপরেও যদি চুল পড়ে তাহলে আগে দেখুন সারা দিন এ কতো চুল পড়ছে, কোন সময় বেশি চুল পড়ছে? গোসল করার পর বেশি পড়ছে? নাকি অন্য কোনও সময়?
এগুলো জানার পরে টিপস গুলো পড়ুন।


১. মাথা পরিস্কার রাখুন। ময়লা মাথায় থাকা যাবে না। মনে রাখবেন আপনার মাথার ত্বক এর জন্য শাম্পু হল উপকারি বন্ধু। যা ময়লা কে দূর করে দিবে।মাথায় তেল ব্যবহার করলে সেটা বদলে দেখতে পারেন। সব তেল সবার মাথায় স্যুট করেনা। মার্কেট এ অনেক রকম তেল পাওয়া যায়। সেই গুলো র কোনও একটা ব্যবহার করে দেখুন। কখনই দোকান থেকে তেল কিনলাম আর মাথায় এসে দিলাম এমন কাজ করা যাবেনা। এর জন্য কাজ করতে হবে সময় দিতে হবে। ভালো করে দেখুন কোন তেলে চুল ভালো থাকছে আর উঠছেনা।

২.যদি তেল না দিয়ে থাকেন তাহলে এক টা জুই এর ( ১০০ মিলি. ) নারিকেল তেল কিনুন এর মধ্যে ২০ টা আমলকী হালকা করে ছেঁচে হালকা তাপে ফুটান ২০ মিনিট। এর পর আমলকী ছেকে নিয়ে বোতল এ করে রেখে দিন। রাখার সময় কিছু মেথি দানা ( এক টেবিল চামচ) বোতল এ দিন। এর পর এই তেল টা মাথায় দিন সপ্তাহে তিন দিন। মাঝে মাঝে এর মধ্যে একটু ক্যাস্টর অয়েল মিশায় নিন।

৩. চুল পড়া অফ করার জন্য মাথার ত্বক এর রক্ত সঞ্চালন অনেক জরুরি। যদি পারেন রাতে ঘুমানোর সময় চুল ভালো করে আঁচড়ায় জট ছুটিয়ে নিয়ে আঙ্গুল এর ডগা দিয়ে মাথার ত্বক কে আস্তে আস্তে মালিস করুন। 

৪. কোক যেমন ক্যান এ পাওয়া যায় এমন ক্যান এ করে নারিকেল এর দুধ পাওয়া যায় সুপার শপে ১৬০ টাকা । একটা ক্যান কিনে আনুন । এটা মুখ বন্ধ করে কোনও কাচ এর জারে এ রেখে দিবেন ফ্রিজে ( নরমাল চেম্বারে)। এই টা দেয়ার সময় মাথায় তেল থাকা যাবে না। ২ টেবিল চামচ মিল্ক নিন।এই বার এই মিল্ক তেল চুল এর আগা থেকে শেষ পর্যন্ত মেসাজ করে করে লাগান। এরপর বসে থাকুন এক ঘণ্টা তারপরে ওয়াস করে ফেলুন শাম্পু দিয়ে ।সপ্তাহে ২/৩ দিন করতে হবে এই ভাবে। এটা হল চুল পড়া অফ করার বেস্ট ওয়ে।

৫. বাজার থেকে আলভেরা দুই টা পাতা কিনে আনুন । এর উপরের চামড়া টা ছিলে বাটিতে ভরে ফ্রিজ এ রেখে দিন ।এবার এই জেলটা পরিমান মত দুই টেবিল চামচ নিয়ে একটু পানি মিশিয়ে ব্লেন্ডার এ ব্লেন্ড করুন । যখন এক দম নারিকেল এর তেল এ মতো হয়ে যাবে তখন এই জুস এর সাথে ৪/৫ ফোটা নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন ।এই বার জুস টা মাথার তালু তে মাসাজ করুন আস্তে আস্তে। ৩০ মিনিট পর এটা শুখিয়ে যাবে।এইভাবে ঘুমিয়ে যান।মাথায় সারা রাত জুস টা রাখা অনেক উপকার দিবে।পরের দিন ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার করুন এক দিন পর পর।এটা দিলে চুল এর ঘনত্ব ও বেড়ে যাবে।

৬. চুল সব চেয়ে বেশি পরে গোসল এর পরে। সারা দিন শেষে বিকাল বেলা বেলা চুল আচড়াবেন। আপনার বাসায় যদি এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল থাকে তাহলে এখন থেকে মাথাতেও এটা দেয়া শুরু করেন। অলিভ অয়েল চুল এর রুক্ষতা দূর করার জন্য বেস্ট অপসন।

৭. রোজ রোজ শ্যাম্পু করা ভালো, এই কাজে কোনো বাধা নাই। এতে চুল পরিষ্কার থাকবে। যেই শ্যাম্পু চুলে স্যুট করে সেইটা ব্যবহার করুন। বেশিরভাগের চুলে সব চেয়ে ভালো কাজ করে ত্রেসেমি, ডাভ এর ডেমেজ রিপেয়ার, আর সান সিল্ক পিঙ্ক।

৮. একটা ডিম নিয়ে আর অলিভ অয়েল সাথে এক টেবিল স্পুন মিক্স করে চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত লাগান। কোন মেসেজ না। তেল এর মত করে আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত দিন । এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে শাম্পু দিয়ে। এইটা করে অনেক ফাস্ট ফলাফল পাওয়া যাবে।

৯. যখন ই সময় পান মাথায় আলভেরা জুস ঘসে ঘসে দিন ।
যদি একটু ধৈর্য ধরে চুল এর যত্ন নেন তাহলে ভাল ফলাফল পাবেন।


১০. লাইফে যখনি স্ট্রেস আসছে মাথা ফাকা হয়ে যায়। সো চুল নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করুন। দেখুন কখন চুল বেশী পড়ছে তখনকার আর চুল স্বাভাবিক থাকাকালিন সময়ের, কালের, পরিবেশের, মানসিক স্বাস্থের পার্থক্য বের করুন।

১১. চুল কে বাড়ানোর জন্য আর চুল পরা অফ করার জন্য ডিম অনেক ভালো। ডিম মাসে দুই বার দিলে বেশি কিছু করা। যেই ৫/৭ টা চুল পড়ে সেই টাও বন্ধ হয়ে যায়।
১২. শীত কাল হোক আর গরম কাল ধুলাবালি সব সময় থাকবে।মাথা টা ঢেকে চলা ফেরা করুন।ধুলা বালি থেকে নিজে বাঁচুন এবং নিজের মাথা কে বাচান।

১৩. সবসময় চুল পরে গেলো, টাক হয়ে গেল এই রকম নেগেটিভ ভাবা বন্ধ করুন। 

লো-কার্ব ডায়েট কি? কেন করে?

ডায়েট রাজ্যে লো-কার্ব খুবই জনপ্রিয় ও কার্যকরী একটি পদ্ধতি ।

লো-কার্ব ডায়েট কিঃ এই ডায়েটে কার্ব (কার্বহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার) খুবই সীমিত থাকে। অন্যদিকে প্রোটিন, ফ্যাট ও শাকসবজিতে প্রাধান্য অনেক বেশী থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে লো-কার্ব ডায়েট স্বাস্থ্যসম্মত এবং ওজন কমাতে খুবই কার্যকরী।অন্যান্য ডায়েটের তুলনায় লো-কার্ব দুই থেকে তিন গুণ বেশি কার্যকরী।এর তেমন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।যে কোন সুস্থ মানুষ লো-কার্ব করতে পারবে। এমনকি অনেক ঝুঁকি পূর্ণ রোগের থাকলেও লো-কার্ব ডায়েট করা যায়। যেমনঃ পিসিওএস, থাইরয়েড, ডায়াবেটস এর রোগীরা এই ডায়েট করতে পারেন।

লো-কার্ব যেভাবে কাজ করেঃ
প্রধানত দুই ভাবে এই ডায়েট করে ওজন কমে।
১. আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামক একটি হরমোন আছে  যার কাজ হচ্ছে শরীরে রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা । কার্ব কম খাওয়ার কারণে ইনসুলিন মাত্রা কমে যায়। ফলে কিডনি শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম স্খলন করে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।

২. আমাদের শরীর গ্লাইকোজেন আকারে কার্ব জমিয়ে শরীরের  মাসল ও লিভারের পানি বেধে রাখে। লো-কার্ব ডায়েট যখন আমরা কার্ব কম খাই তখন গ্লাইকোজেন কমে যায় তাই পানিও কমে যায় এবং ওয়াটার ওয়েট হ্রাস পায়।

এই ডায়েটে খেতে হবেঃ মাছ, মাংস, ডিম, শাক সবজি,  বাদাম, ফল,হাই-ফ্যাট দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন চীজ,বাটার। অলিভ ওয়েল,ঘি,কোকনাট ওয়েল।

যেগুলো খাওয়া যাবেনাঃ চিনি, হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্সড ফুড, প্রোসেসড ফুডস (যেমন সফট-ড্রিঙ্কস বা কোমল পানীয়)।

টোটাল ফ্যাট % যেন মিল প্ল্যানের ৪৫-৫০% থেকে বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ম্যাক্রো রেশিও বা পুষ্টির অনুপাতঃ
কার্বঃ 25% 
প্রোটিনঃ 25%
ফ্যাটঃ 50%

কিটো ফ্রেন্ডলি বিফ শিক কাবাব


উপকরন:
১.বিফ ৫০০ গ্রাম হাড় ছাড়া
২. পিয়াজ বেরেস্তা ১/২ কাপ
৩. টক দই ১/২ কাপ
৪. আদা পেষ্ট ১ টেবিল চামচ
৫. রসুন পেষ্ট ১/২ টেবিল চামচ
৬. ভাজা জিরা গুরা ১ চা চামচ
৭. ধনিয়া গুরা ১ চা চামচ
৮. লাল মরিচ ১ চা চামচ
৯. গরম মসলা গুড়া ১/২ চা চামচ
১০. গোল মরিচ গুড়া ১/৪ চা চামচ
১১. ওলিভ ওয়েল ২ টেবিল চামচ

প্রণালিঃ মাংস গুলো পাতলা এবং লম্বা করে কেটে নিতে হবে।
পিয়াজ বেরেস্তা আর টক দই ব্লেন্ড করে নিতে হবে।এই মিশ্রনটা মাংসে দিতে হবে।
একে একে সব মশলা আর তেল দিয়ে সব কিছু মাংসের সাথে মাখাতে হবে। এভাবে মেরিনেট করে ১২ ঘন্টা রেখে দিতে হবে নরমাল ফ্রিজ এ।
১২ ঘন্টা হয়ে গেলে মাংস গুলোকে কাঠিতে গেথে নিতে হবে। মাংস গাথার আগে কাঠি গুলোকে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

ফ্রাই প্যান এ ১ টেবিল চামচ ওলিভ ওয়েল বা অন্য স্বাস্থ্য সম্মত তেল দিয়ে আস্তে আস্তে কাবাব গুলোকে ভাজতে হবে ১৫ মিনিট। 
হয়ে গেলো কিটো ফ্রেন্ডলি বিফ শিক কাবাব।



সুস্থ্য জীবনের জন্য ১১ টি টিপস

১.  আপনি মোটা বা চিকন যেমনি হন না কেন প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন৷ শরীর সুস্থ থাকলে ছুটির দিনেও হাঁটার অভ্যাস টি বাদ দিবেন না।

২. সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন এবং সারা দিনের করণীয় গুলো সম্পর্কে প্লানিং করুন।

৩. নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরে তৈরি খাবার বেশি খাবেন আর প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাবেন।

৪. সবুজ চা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। 

৫. গালগপ্প, অতীতের স্মৃতি, বাজে চিন্তা করে আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় করবেন না। ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।

৬. রাত ১০ টার মধ্যেই ঘুমানোর আর ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। দেখা গেছে পৃথিবীর বেশীরভাগ স্বাস্থ্যবান, রোগমুক্ত ও সফল মানুষ এই রুটিনেই ঘুমান এবং ঘুম থেকে ওঠেন।

৭. জীবন সব সময় সমান যায় না, তবুও ভাল কিছুর অপেক্ষা করতে শিখুন। আজকে আপনি অনেক মোটা বা চিকন। কিন্তু আপনি চেষ্টা করলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজনের ও স্বাস্থ্যের লক্ষ্যে অবশ্যই পৌছাতে পারবেন। তাই ধৈর্য্য হারাবেন না। সৃষ্টিকর্তার পর ভরসা রাখুন।

৮. কঠিন করে কোন বিষয় ভাববেন না। সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন। মনে রাখবেন সময় যতই ভাল বা খারাপ হোক তা বদলাবেই।

৯. সব সময় চেষ্টা করুন যাতে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কোন কাজে আপনার কোনো রকম অলসতা না করে। মোটা মানুষের মোটা হওয়ার অনেকটাই কারণ তারা অলস।

১০. প্রতিদিন একই সময়ে সেই সময়ের খাদ্য গ্রহন করুন। যেমন সকালের খাবার ৮ টায় খেলে প্রতিদিন ৮ টাতেই খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একদিনের ডায়েটের খাবারকে ৪/৫ ভাগে ভেঙে প্রয়োজন মত গ্যাপ রেখে খাবার তালিকা বানান। তাহলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগবেনা।

১১. অ্যাপ টি নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন। ইন শা আল্লাহ আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ্য থাকার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন।
 

ওয়েট সাইক্লিং ও ক্রাশ ডায়েট যেটা কখনোই করবেন না

ডায়েটে একটা ইয়ো-ইয়ো আছে যাকে ইয়ো-ইয়ো ডায়েটিং বা “ওয়েইট সাইকেলিং” বলে যার মাধ্যমে এমন একটি প্যাটার্ন বোঝায় যেখানে একবার ওজন কমানো হয় তারপর আবার বাড়ানো হয় তারপর আবার ওজন কমানোর জন্য চেষ্টা করা হয়। ঠিক ইয়ো-ইয়োর মত ওজন একবার ওপরে উঠে যায় আবার নিচে নেমে আসে তারপর আবার ওপরে উঠে যায়। পরিসংখ্যান বলছে পুরুষদের ১০% এবং মহিলাদের ৩০% এই ধরনের ডায়েট করে থাকেন। মূলত এটা ক্রাশ ডায়েট করে একবার হঠাৎ ওজন কমানো এবং কদিন পরই সে ওজন ফিরে আসার ঘটনার পুনরাবৃত্তিই বোঝায়।

ইয়ো-ইয়ো ডায়েট এর সমস্যাঃ

১. ওজন কমানোর জন্য ডায়েটে থাকা অবস্থায় ফ্যাট লসের কারনে শরীরে “লেপটিন” হরমোন এর লেভেল কমে যায় যেটি খাবার পর পেটভরা অনুভুতি তৈরি করে। সাধারন সময়ে শরীরের জমানো ফ্যাট লেপটিন নিঃসরণ করে রক্তে যা শরীরকে বলে দেয় যে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি রয়েছে এবং আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ওজন কমাতে গিয়ে শরীর থেকে ফ্যাট কমে যাবার পর স্বাভাবিক ভাবেই লেপটিনের নিঃসরণ কমে যায়। তারওপর আবার শরীর যেহেতু জমানো শক্তি হারিয়েছে তাই নতুন করে সে শক্তির ডিপোজিট করতে সে ক্ষুধার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আবার রাক্ষুসে ক্ষুধা, নিয়ন্ত্রনহীন খাওয়া এবং অবধারিতভাবে আবার মোটা হয়ে যাওয়া।

২. ক্রাশ-ডায়েট বা শর্ট টার্ম ইনটেন্স ডেফিসিট ডায়েট প্ল্যানে শরীর দ্রুত ওজন হারায় এবং সে হারানো ওজনের বেশিরভাগই হয় মাসল মাস এবং ওয়াটার ওয়েট (গ্লাইকোজেন)। ডায়েট থেকে বের হবার পর প্রায় দ্রুতই ৩০-৬৫% ওজন ফিরে আসে। মাসল হারানোর কারনে শরীরের মেটাবোলিজমও কমে আসে এবং ইভেনচুয়ালি ওজন আগের চেয়েও বেশি হয়ে যায়।

৩. মাসল বানাতে হয় আর ফ্যাট শরীরে সুযোগ পেলেই জমে। ক্রাশ ডায়েট বা অন্য যেকোনও ডায়েটে ওজন কমানো বেশ সোজা কাজ হলেও একই সাথে মাসল বিল্ডআপ করা এবং ফ্যাট লস করা বেশ কঠিন। এজন্য ডায়েটপ্ল্যানে যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন রাখতে বলা হয় এবং রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করতে বলা হয় যাতে মাসলও তৈরি হয় এবং ফ্যাটও লস হয়। হঠাৎ ওজন কমানোর পর যখন আবার ওজন বাড়ে তখন কিন্তু মাসল অত্যন্ত নগন্য পরিমান বাড়লেও ফ্যাট বাড়ে বেশি। ফলাফল হিসেবে শরীরে ফ্যাট% বেড়ে যায় এবং ওজন যতটা বাড়ে তারচেয়েও বেশি বাড়ে ইঞ্চিতে ফলে দেখতে মোটা লাগে।

৪. একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে ক্রাশ ডায়েটের। আপনি হয়তো ওজন নিয়ে অনেকদিন ধরেই চিন্তিত। অনেকবার ভেবেছেন একটা হেলদি লাইফস্টাইল অ্যাডপ্ট করবেন কিন্তু কেন যেন করি করি করেও করা হয়ে উঠছেনা। এমন সময় একটা ৭-১০ দিনের ক্রাশ ডায়েট প্রগ্রামে গিয়ে দ্রুত ৫/৬ কেজি কমিয়ে ফেললেন। তারপর কি আর আপনার মন চাইবে ক্যালরি মেপে খেতে? ইচ্ছে করবে সকাল বা বিকালে ১ ঘন্টা হাটতে? ইচ্ছে করবে দিনে ৩/৪ লিটার পানি জোরাজুরি করে খেতে? আপনি হয়তো একটা হেলদি লাইফস্টাইলে চলেই যেতেন কিন্তু এই নগদ নগদ পরিবর্তন দেখতে পেয়ে কষ্টসাধ্য কিন্তু জরুরী পদক্ষেপটা আর নেয়া হয় না। এভাবে একটু একটু করে পেছাতে পেছাতে একসময় আর হেলদি লাইফস্টাইল অ্যাডপ্ট করাই হয়না।

তাহলে কি করতে হবে? 
উত্তর একটাই। ধানাইপানাই ছেড়ে সোজা রাস্তায় আসতে হবে। প্রপার ম্যাক্রো রেশিও তে প্রপার ক্যালরি লিমিটে থেকেই ওজন কমাতে হবে। এক্সারসাইজ করতে হবে এবং ধৈর্য রাখতে হবে। তাড়াহুড়ার কাজ ভালো হয়না।