পানি চর্বি বা শরীরে পানি জনিত ওজন

water weight pic
ওজন কমানোর সময় একটা টার্ম যে শুরুর দিকে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমে, ৭ দিনে ৫ কেজি কমে যায়, পরে ধীরেধীরে কমে কারণ কি?  কিটোজেনিক ডায়েট শুরুর ১০ দিনে ১০ কেজি কমে গেল, কিন্তু পরের ২০ দিনে ৩ কেজি রিডাকশন কারণ টা কি? সরদি কাশির জন্য এন্টিহিস্টামিন খাই ১ মাস হল, মুখ ফোলা কেন লাগে? বাতাস খেলেও ফুলে যাই, হ্যা লবণ টা মেপে খাই না, ওজন কেন কমছে না?  চিনি পছন্দ, প্রোটিন আর কার্ব তো সিমিলার ক্যালরি, ক্যালরি ব্যালেন্স করেই খাচ্ছি ওয়েট কেন কমছে না?  ঘুম ৬ ঘন্টার কম হলে মুখ ফোলা কেন ?  ৮ ঘন্টার বেশি ঘুমাই, দূর্বল লাগে মেপে খাই তাও ফোলাভাব কেন যাচ্ছে না।  সবগুলো প্রশ্নের একটা উত্তর হলো Water Weight বা পানিজনিত ওজন। সুস্থ স্বাভাবিক একটা মানবদেহ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন, তবে ওয়াটার ওয়েট কি আমাদের জন্য ভালো? শরীরের ৭০% ই ত পানি, তবে ওয়াটার ওয়েট কি আর কেন ভেবেছেন? বর্ষাকালে লবণ টেবিলে কিছুদিন রেখে দিলে পানি টেনে নিতে দেখেছেন নিশ্চয়ই, কারণ লবণ হাইগ্রোস্কোপিক, অর্থাৎ পানি ধরে রাখে, এই কার্যকরী গুণ টি সে খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ খেলেও একই উপায়ে শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, তাই যারা অতিরিক্ত লবন খান তাদের শরীরের ওয়াটার ওয়েট বেশি। সুস্থ স্বাভাবিক শরীর এর পানি ধরে রাখার প্রবণতা কম, শরীর কখনওই Fat বা Muscle এত সহজে লস করে না, ৭৭০০ calorie ডেফিসিট না হলে হিসেবে ওজন কমার কথাও না, তাহলে শুরুর দিকে খুব দ্রুত যেটা কমে সেটা কি? প্রশ্ন আসার কথা মাথায়, হ্যা এটাই ওয়াটার ওয়েট বা অতিরিক্ত পানি যা কিনা Flash Out করে দিচ্ছেন frequent urination আর ঘামের মাধ্যমে। 

 শরীরে Water Weight বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ: 
১. হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়া।   
২. মুখের ফোলাভাব।  
৩. Food Allergy  
৪.  দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ

 চলুন জানা যাক কি কি কারণে ওয়াটার ওয়েট বাড়তে পারেঃ  
১. অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট Intake: যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কার্ব নেন অথচ এক্সারসাইজ করেন ই না তেমন তাদের ক্ষেত্রে ইন্সুলিন স্পাইক করে বেশি, যা কিনা অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে ধরে রাখতে সাহায্য করে ফলাফল ওয়াটার ওয়েট বৃদ্ধি। শুধু তাই না প্রতি ১ গ্রাম মাসল গ্লাইকোজেন ৩ গ্রাম পানি ধরে রাখে, তাই কিটোর মত অল্মোস্ট কার্ব ফ্রি যেসব ডায়েট প্ল্যান আছে সেগুলো তে শুরুর দিকে যেই ওজন কমে তার পুরোটাই water weight.  
২. Exercise এর সময় মাসল glycogen থেকে ক্যালরি burn হতে থাকে পাশাপাশি ওয়াটার ওয়েট ও ধীরেধীরে কমতে থাকে, যে কারণে exercise করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।  ৩. পানি কম খাওয়াঃ Fluid  Retention, oedema, imbalance macro এবং খুব সামান্য ক্যালরি intake basis ডায়েট, toxic substance শরীরে deposit হওয়া ইত্যাদি ওয়াটার ওয়েট বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রচুর পানি পান করলে যা হয় toxic substance গুলো ফ্রিকুয়েন্ট ইউরিনেশনে বেরিয়ে যায়, electrolyte balance এর পাশাপাশি কিডনির নেফ্রন গুলো সুরক্ষিত থাকে।  ৪. পিরিয়ড এর সাইকেলঃ মহিলাদের পিরিয়ডিক্যাল সাইকেল এর লুটেয়াল ফেজ এবং প্রেগন্যান্সি তে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরনের হরমোনাল পরিবর্তন ওয়াটার ওয়েট রিটেনশনের একটা কারণ। তাই পিরিয়ড শেষ হবার ৪-৫ দিন পর হরমোন দুটি স্বাভাবিক রেঞ্জ এ আসলে ওয়েট খালি পেটে মাপা করা উচিৎ।  ৫. ঘুম পর্যাপ্তঃ ঘুম সিম্প্যাথেটিক রেনাল নার্ভস এর সঠিক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে, যা কিনা সোডিয়াম এবং ওয়াটার ব্যালেন্স করে। শুধু তাই না, প্রোটিন proper metabolism এর জন্য ৭-৮ ঘন্টার sound sleep জরুরি।  ওজন সঠিক সীমাতে রাখার স্বাস্থ্য ভিত্তিক অ্যাপ টি প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন। ৬. কর্টিসল+ ADH রিলেশনঃ কর্টিসল হরমোন হ্রাস বা বৃদ্ধি Antipyretic Hormone (ADH) কে ব্যালেন্স করে, যা কিনা নির্ধারণ করে ঠিক কত টা পানি কিডনি তে পাম্প করে পাঠাবে।  ৭. ইলেক্ট্রোলাইটস হাইপারন্যাট্রেমিয়া আর হাইপোন্যাট্রেমিয়া দুইখানা টার্ম, মূল বিষয় হল এক্টাতে ইলেক্ট্রোলাইট বেশি আরেক্টাতে কম দুটাই কিনা আমাদের জন্য খারাপ। আমরা খাবার লবণ খাচ্ছি সেখান থেকে সোডিয়াম আর ক্লোরিন পাচ্ছি। কিন্তু পর্যাপ্ত পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। মাল্টিভিটামিন এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে এডেড থাকে, তাই মাল্টিভিটামিন খাওয়ার পাশাপাশি পানি প্রচুর খাওয়ার সাজেশন দেয়া হয় যাতে body তে ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স থাকে। এছাড়া দুধ, কলা, টমেটো শাক ইত্যাদি ম্যাগ্নেশিয়াম- পটাশিয়াম এর ভালো উতস, তাই ডায়েট এ খাওয়ার সাজেশন রাখা হয়।