চুল পড়া কমাবেন যেভাবে

আপনি কি চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত? 
ডায়েট করার পর থেকে চুল উঠে যাচ্ছে?
আগে বের করতে হবে কেন চুল পড়ছে?
রাতে কি ঘুমাচ্ছি ঠিক মতো?
মন এ শান্তি আছে তো?
সামনে কি পরীক্ষা?
অথবা কয়েক দিন আগে কি আপনার বাবু হয়েছে?
এই প্রব্লেম গুলার কোনও একটাও থাকলে যতই চুল এর যত্ন করেন কোনও কাজ হবে না।
যখন খুব খারাপ সময় পার করা হয় তখন চুল পড়ে না। যখন খারাপ সময়টা পার হয়ে যায় ঠিক সেই সময় সব চুল পড়ে যায়।
খাবার দাবার খুব বাছা বাছি করলে এর ঠিক ১৫ দিন পর চুল পড়ে।
 এরপরেও যদি চুল পড়ে তাহলে আগে দেখুন সারা দিন এ কতো চুল পড়ছে, কোন সময় বেশি চুল পড়ছে? গোসল করার পর বেশি পড়ছে? নাকি অন্য কোনও সময়?
এগুলো জানার পরে টিপস গুলো পড়ুন।


১. মাথা পরিস্কার রাখুন। ময়লা মাথায় থাকা যাবে না। মনে রাখবেন আপনার মাথার ত্বক এর জন্য শাম্পু হল উপকারি বন্ধু। যা ময়লা কে দূর করে দিবে।মাথায় তেল ব্যবহার করলে সেটা বদলে দেখতে পারেন। সব তেল সবার মাথায় স্যুট করেনা। মার্কেট এ অনেক রকম তেল পাওয়া যায়। সেই গুলো র কোনও একটা ব্যবহার করে দেখুন। কখনই দোকান থেকে তেল কিনলাম আর মাথায় এসে দিলাম এমন কাজ করা যাবেনা। এর জন্য কাজ করতে হবে সময় দিতে হবে। ভালো করে দেখুন কোন তেলে চুল ভালো থাকছে আর উঠছেনা।

২.যদি তেল না দিয়ে থাকেন তাহলে এক টা জুই এর ( ১০০ মিলি. ) নারিকেল তেল কিনুন এর মধ্যে ২০ টা আমলকী হালকা করে ছেঁচে হালকা তাপে ফুটান ২০ মিনিট। এর পর আমলকী ছেকে নিয়ে বোতল এ করে রেখে দিন। রাখার সময় কিছু মেথি দানা ( এক টেবিল চামচ) বোতল এ দিন। এর পর এই তেল টা মাথায় দিন সপ্তাহে তিন দিন। মাঝে মাঝে এর মধ্যে একটু ক্যাস্টর অয়েল মিশায় নিন।

৩. চুল পড়া অফ করার জন্য মাথার ত্বক এর রক্ত সঞ্চালন অনেক জরুরি। যদি পারেন রাতে ঘুমানোর সময় চুল ভালো করে আঁচড়ায় জট ছুটিয়ে নিয়ে আঙ্গুল এর ডগা দিয়ে মাথার ত্বক কে আস্তে আস্তে মালিস করুন। 

৪. কোক যেমন ক্যান এ পাওয়া যায় এমন ক্যান এ করে নারিকেল এর দুধ পাওয়া যায় সুপার শপে ১৬০ টাকা । একটা ক্যান কিনে আনুন । এটা মুখ বন্ধ করে কোনও কাচ এর জারে এ রেখে দিবেন ফ্রিজে ( নরমাল চেম্বারে)। এই টা দেয়ার সময় মাথায় তেল থাকা যাবে না। ২ টেবিল চামচ মিল্ক নিন।এই বার এই মিল্ক তেল চুল এর আগা থেকে শেষ পর্যন্ত মেসাজ করে করে লাগান। এরপর বসে থাকুন এক ঘণ্টা তারপরে ওয়াস করে ফেলুন শাম্পু দিয়ে ।সপ্তাহে ২/৩ দিন করতে হবে এই ভাবে। এটা হল চুল পড়া অফ করার বেস্ট ওয়ে।

৫. বাজার থেকে আলভেরা দুই টা পাতা কিনে আনুন । এর উপরের চামড়া টা ছিলে বাটিতে ভরে ফ্রিজ এ রেখে দিন ।এবার এই জেলটা পরিমান মত দুই টেবিল চামচ নিয়ে একটু পানি মিশিয়ে ব্লেন্ডার এ ব্লেন্ড করুন । যখন এক দম নারিকেল এর তেল এ মতো হয়ে যাবে তখন এই জুস এর সাথে ৪/৫ ফোটা নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন ।এই বার জুস টা মাথার তালু তে মাসাজ করুন আস্তে আস্তে। ৩০ মিনিট পর এটা শুখিয়ে যাবে।এইভাবে ঘুমিয়ে যান।মাথায় সারা রাত জুস টা রাখা অনেক উপকার দিবে।পরের দিন ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার করুন এক দিন পর পর।এটা দিলে চুল এর ঘনত্ব ও বেড়ে যাবে।

৬. চুল সব চেয়ে বেশি পরে গোসল এর পরে। সারা দিন শেষে বিকাল বেলা বেলা চুল আচড়াবেন। আপনার বাসায় যদি এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল থাকে তাহলে এখন থেকে মাথাতেও এটা দেয়া শুরু করেন। অলিভ অয়েল চুল এর রুক্ষতা দূর করার জন্য বেস্ট অপসন।

৭. রোজ রোজ শ্যাম্পু করা ভালো, এই কাজে কোনো বাধা নাই। এতে চুল পরিষ্কার থাকবে। যেই শ্যাম্পু চুলে স্যুট করে সেইটা ব্যবহার করুন। বেশিরভাগের চুলে সব চেয়ে ভালো কাজ করে ত্রেসেমি, ডাভ এর ডেমেজ রিপেয়ার, আর সান সিল্ক পিঙ্ক।

৮. একটা ডিম নিয়ে আর অলিভ অয়েল সাথে এক টেবিল স্পুন মিক্স করে চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত লাগান। কোন মেসেজ না। তেল এর মত করে আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত দিন । এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে শাম্পু দিয়ে। এইটা করে অনেক ফাস্ট ফলাফল পাওয়া যাবে।

৯. যখন ই সময় পান মাথায় আলভেরা জুস ঘসে ঘসে দিন ।
যদি একটু ধৈর্য ধরে চুল এর যত্ন নেন তাহলে ভাল ফলাফল পাবেন।


১০. লাইফে যখনি স্ট্রেস আসছে মাথা ফাকা হয়ে যায়। সো চুল নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করুন। দেখুন কখন চুল বেশী পড়ছে তখনকার আর চুল স্বাভাবিক থাকাকালিন সময়ের, কালের, পরিবেশের, মানসিক স্বাস্থের পার্থক্য বের করুন।

১১. চুল কে বাড়ানোর জন্য আর চুল পরা অফ করার জন্য ডিম অনেক ভালো। ডিম মাসে দুই বার দিলে বেশি কিছু করা। যেই ৫/৭ টা চুল পড়ে সেই টাও বন্ধ হয়ে যায়।
১২. শীত কাল হোক আর গরম কাল ধুলাবালি সব সময় থাকবে।মাথা টা ঢেকে চলা ফেরা করুন।ধুলা বালি থেকে নিজে বাঁচুন এবং নিজের মাথা কে বাচান।

১৩. সবসময় চুল পরে গেলো, টাক হয়ে গেল এই রকম নেগেটিভ ভাবা বন্ধ করুন।