ওয়েট সাইক্লিং ও ক্রাশ ডায়েট যেটা কখনোই করবেন না

ডায়েটে একটা ইয়ো-ইয়ো আছে যাকে ইয়ো-ইয়ো ডায়েটিং বা “ওয়েইট সাইকেলিং” বলে যার মাধ্যমে এমন একটি প্যাটার্ন বোঝায় যেখানে একবার ওজন কমানো হয় তারপর আবার বাড়ানো হয় তারপর আবার ওজন কমানোর জন্য চেষ্টা করা হয়। ঠিক ইয়ো-ইয়োর মত ওজন একবার ওপরে উঠে যায় আবার নিচে নেমে আসে তারপর আবার ওপরে উঠে যায়। পরিসংখ্যান বলছে পুরুষদের ১০% এবং মহিলাদের ৩০% এই ধরনের ডায়েট করে থাকেন। মূলত এটা ক্রাশ ডায়েট করে একবার হঠাৎ ওজন কমানো এবং কদিন পরই সে ওজন ফিরে আসার ঘটনার পুনরাবৃত্তিই বোঝায়।

ইয়ো-ইয়ো ডায়েট এর সমস্যাঃ

১. ওজন কমানোর জন্য ডায়েটে থাকা অবস্থায় ফ্যাট লসের কারনে শরীরে “লেপটিন” হরমোন এর লেভেল কমে যায় যেটি খাবার পর পেটভরা অনুভুতি তৈরি করে। সাধারন সময়ে শরীরের জমানো ফ্যাট লেপটিন নিঃসরণ করে রক্তে যা শরীরকে বলে দেয় যে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি রয়েছে এবং আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ওজন কমাতে গিয়ে শরীর থেকে ফ্যাট কমে যাবার পর স্বাভাবিক ভাবেই লেপটিনের নিঃসরণ কমে যায়। তারওপর আবার শরীর যেহেতু জমানো শক্তি হারিয়েছে তাই নতুন করে সে শক্তির ডিপোজিট করতে সে ক্ষুধার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আবার রাক্ষুসে ক্ষুধা, নিয়ন্ত্রনহীন খাওয়া এবং অবধারিতভাবে আবার মোটা হয়ে যাওয়া।

২. ক্রাশ-ডায়েট বা শর্ট টার্ম ইনটেন্স ডেফিসিট ডায়েট প্ল্যানে শরীর দ্রুত ওজন হারায় এবং সে হারানো ওজনের বেশিরভাগই হয় মাসল মাস এবং ওয়াটার ওয়েট (গ্লাইকোজেন)। ডায়েট থেকে বের হবার পর প্রায় দ্রুতই ৩০-৬৫% ওজন ফিরে আসে। মাসল হারানোর কারনে শরীরের মেটাবোলিজমও কমে আসে এবং ইভেনচুয়ালি ওজন আগের চেয়েও বেশি হয়ে যায়।

৩. মাসল বানাতে হয় আর ফ্যাট শরীরে সুযোগ পেলেই জমে। ক্রাশ ডায়েট বা অন্য যেকোনও ডায়েটে ওজন কমানো বেশ সোজা কাজ হলেও একই সাথে মাসল বিল্ডআপ করা এবং ফ্যাট লস করা বেশ কঠিন। এজন্য ডায়েটপ্ল্যানে যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন রাখতে বলা হয় এবং রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করতে বলা হয় যাতে মাসলও তৈরি হয় এবং ফ্যাটও লস হয়। হঠাৎ ওজন কমানোর পর যখন আবার ওজন বাড়ে তখন কিন্তু মাসল অত্যন্ত নগন্য পরিমান বাড়লেও ফ্যাট বাড়ে বেশি। ফলাফল হিসেবে শরীরে ফ্যাট% বেড়ে যায় এবং ওজন যতটা বাড়ে তারচেয়েও বেশি বাড়ে ইঞ্চিতে ফলে দেখতে মোটা লাগে।

৪. একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে ক্রাশ ডায়েটের। আপনি হয়তো ওজন নিয়ে অনেকদিন ধরেই চিন্তিত। অনেকবার ভেবেছেন একটা হেলদি লাইফস্টাইল অ্যাডপ্ট করবেন কিন্তু কেন যেন করি করি করেও করা হয়ে উঠছেনা। এমন সময় একটা ৭-১০ দিনের ক্রাশ ডায়েট প্রগ্রামে গিয়ে দ্রুত ৫/৬ কেজি কমিয়ে ফেললেন। তারপর কি আর আপনার মন চাইবে ক্যালরি মেপে খেতে? ইচ্ছে করবে সকাল বা বিকালে ১ ঘন্টা হাটতে? ইচ্ছে করবে দিনে ৩/৪ লিটার পানি জোরাজুরি করে খেতে? আপনি হয়তো একটা হেলদি লাইফস্টাইলে চলেই যেতেন কিন্তু এই নগদ নগদ পরিবর্তন দেখতে পেয়ে কষ্টসাধ্য কিন্তু জরুরী পদক্ষেপটা আর নেয়া হয় না। এভাবে একটু একটু করে পেছাতে পেছাতে একসময় আর হেলদি লাইফস্টাইল অ্যাডপ্ট করাই হয়না।

তাহলে কি করতে হবে? 
উত্তর একটাই। ধানাইপানাই ছেড়ে সোজা রাস্তায় আসতে হবে। প্রপার ম্যাক্রো রেশিও তে প্রপার ক্যালরি লিমিটে থেকেই ওজন কমাতে হবে। এক্সারসাইজ করতে হবে এবং ধৈর্য রাখতে হবে। তাড়াহুড়ার কাজ ভালো হয়না।